বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাতারগুলে বৃক্ষরোপন ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ

sylhetsurma.com
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৬
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাতারগুলে বৃক্ষরোপন ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ

Manual2 Ad Code

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সিলেট শাখা এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট সিলেটের যৌথ উদ্যোগে শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১ টা পর্যন্ত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল জলারবনের মাঝের ঘাটে ফলজ, ঔষধি ও বনজ প্রায় অর্ধ শতাধিক গাছ লাগানো হয়। এছাড়া বন ও বনসংলগ্ন এলাকা থেকে পাঁচ বস্তারও বেশি প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়।

Manual3 Ad Code

বৃক্ষরোপণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ ও ধ্বংসের পূর্বে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার আহ্বায়ক ও পরিবেশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের সভাপতি ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধরার সংগঠক মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম।

Manual4 Ad Code

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য সংকটাপন্ন। এ সংকট থেকে রক্ষা পেতে অনেকগুলো কার্যকর ও সহজ উপায়ের একটি হলো বৃক্ষরোপন ও বন সংরক্ষণ। বাংলাদেশের জন্য অন্ততঃ ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এর তিনভাগের একভাগও কার্যকরি বন নেই। সরকারি দলিলপত্রে বনভূমি থাকলেও তাতে বৃক্ষ নেই। তাই অবিলম্বে বনভূমির এলাকাসমূহে কার্যকর বন সৃষ্টি করে পুরো দেশকে সবুজায়নের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। রাতারগুল প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানে পর্যটকদের ভ্রমন ও বনের ভেতর পরিদর্শনের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। টেকসই পর্যটন হলো পরিবেশ ও প্রতিবেশবান্ধব। জীববৈচিত্রের অস্তিত্বের জন্য সংবেদনশীল কাজ থেকে পর্যটকদের বিরত থাকতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে আব্দুল করিম কিম বলেন, ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে সুইডেনের স্টকহোম শহরে অনুষ্ঠিত পরিবেশ সম্মেলনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিধ্বসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধি হলো এ দিবসের মূল উপজীব্য। জীববৈচিত্র, বনজ সম্পদ ও পাহাড় টিলার জন্য সিলেট বাংলাদেশের মধ্যে বিশেষ স্থান দখল করলেও আমরা সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছি। প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য শহর নগর পেরিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় তথা পাহাড়, বন-জঙ্গল; এমনকি একমাত্র মিঠাপানির জলাবন রাতারগুলের পরিবেশ ও প্রতিবেশকে সংকটাপন্ন করে তুলেছে। আমরা এসব প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সংগ্রহ করে তা ধ্বংসের মাধ্যমে প্রতীকী কর্মসূচী পালন করে পর্যটক ও এলাকার জনসাধারনকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি। সরকারকেও এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

Manual5 Ad Code

অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার বলেন, রাতারগুল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে এখানকার ভূমিকে নদীভাঙ্গনের শিকারে পরিণত করা হয়েছিল। এলাকার সচেতন জনগনকে নিয়ে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় সরকার কঠোর হয়। ফলে আপাততঃ তা বন্ধ রয়েছে। প্লাস্টিক ফাঁদের মাধ্যমে মাছ শিকার করে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির জলজ প্রাণ ধ্বংসের কর্মকান্ডে অনেকে জড়িত। আমরা এদের বিরুদ্ধেও কর্মসূচী গ্রহণ করেছি। এ জলাবন কেবল একখন্ড ভূমি নয়; এটি জীববৈচিত্রের আধাঁর। এটি আমাদের অস্তিত্ব। এ বনকে সংরক্ষণ করতে হবে। এখানকার পর্যটন হতে হবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই। সবুজায়ন কর্মসূচীর মাধ্যমে এখানে নতুন বন সৃজন ও বিদ্যমান বন সংরক্ষণ জরুরী।

Manual5 Ad Code

কর্মসূচীতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উজ্জ্বল রায়, ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক সঞ্জয় কুমার রায়, পরিবেশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া, ধরা সিলেট শাখার সদস্য নাহিদ পারভেজ বাবু ও সোনা মিয়া, স্থানীয় ফতেহপুর ইউনিয়নের মেম্বার ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, রাতারগুল গ্রামের আমির আলী, আরব আলী, মিনহাজ উদ্দিন, ফজলু মিয়া প্রমুখ।