সিলেট সীমান্তে পুশ-ইন শঙ্কা, বিজিবির সতর্কতা

sylhetsurma.com
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৬
সিলেট সীমান্তে পুশ-ইন শঙ্কা, বিজিবির সতর্কতা

Manual3 Ad Code

সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে সম্ভাব্য পুশ-ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতামূলক মাইকিং করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সচেতন থাকার এবং সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত গভীর রাতে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ গোয়াইনঘাট সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জানানো হয়, বিশ্বস্ত সূত্রে ভারত থেকে পুশ-ইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য চেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

Manual8 Ad Code

বিজিবির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যেন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করেন এবং মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পা না দেন। সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক চলাচল দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করারও অনুরোধ জানানো হয়।

Manual1 Ad Code

সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, ৪৮ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ির মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ পুশ-ইন ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Manual3 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট সীমান্তজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক এবং চোরাচালান কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের উজানীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারীসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।

Manual8 Ad Code

এর আগে গোয়াইনঘাট উপজেলার কুলুমছড়া সীমান্তে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে আটক করে বিজিবি ও পুলিশ। একই ঘটনায় মানবপাচার মামলার এক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া গত কয়েক মাসে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা মাদকদ্রব্য, ভারতীয় কসমেটিকস ও বিভিন্ন চোরাই পণ্য জব্দের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিজিবি ও পুলিশের যৌথ এবং পৃথক অভিযানে এসব পণ্য উদ্ধার করা হলেও সীমান্তভিত্তিক অপরাধচক্রের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।