সিলেটে ট্রিপল মার্ডার : বিদ্যুৎ না থাকায় হত্যাকান্ডের সময় বন্ধ ছিল বাসার সিসি ক্যামেরা

sylhetsurma.com
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২৬
সিলেটে ট্রিপল মার্ডার : বিদ্যুৎ না থাকায় হত্যাকান্ডের সময় বন্ধ ছিল বাসার সিসি ক্যামেরা

Manual7 Ad Code

সিলেট নগরের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডারের সময় ওই বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভি ক্যামেরাটি বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধের সুযোগেই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছে।

Manual7 Ad Code

বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)-এর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Manual1 Ad Code

নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ও সিলেট চেম্বারের পরিচালক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাসায় সস্ত্রীক বসবাস করছিলেন। তাদের দেখাশোনা করতেন গৃহপরিচারিকা।তাদের চার সন্তান যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকন।

ঘটনার সময় ওই বাসার সিসিটিভি বন্ধ থাকার তথ্য জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই কেউ বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে পুরো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আশপাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো ছুরি বা অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি কাজ করছে। পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ক্রাইম সিন পরীক্ষা, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।’

পুলিশ কমিশনার জানান, ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চারতলার ভাড়াটিয়ারা সকালে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পেছনে ডাকাতি, পারিবারিক শত্রুতা কিংবা পূর্ববিরোধ—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিলও উদ্ধার হয়েছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সিআইডি, পিবিআই ও পুলিশের বিশেষায়িত টিম একযোগে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্যের সহায়তায় দ্রুত জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।’এ বিষয়ে কারও কাছে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিএনপি ও জমায়াত নেতারা।

নিহত দম্পতির ভাগনে মুন্না মিয়া বলেন, ‘রায়নগরের বাসায় আমার মামা-মামি একাই থাকতেন। তাদের সঙ্গে একজন গৃহপরিচারিকা থাকতেন। বুধবার সকাল ৯টার দিকেও তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সকাল ৯টার পর কোনো এক সময় তাদের হত্যা করা হয়েছে।’

Manual7 Ad Code

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির বলেন, এই দম্পত্তির চার সন্তারে মধ্যে দুই সন্তান লন্ডনে ও দুই সন্তান আমেরিকায় থাকেন। আমরা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাই। এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।