মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
২০১৮ সালে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সদস্য এবং পরে ২০২০ সালে রাজনগর উপজেলা যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অপরাজিত দেব বর্তমানে রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী অপরাজিত দেব গত ১৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে তার স্ত্রী, ডাক্তার ফাল্গুনী দেব, ও দুই বছর বয়সী কন্যা সন্তানসহ দেশে ফিরে আসেন তার অসুস্থ মাকে দেখতে। তবে দেশে ফিরে তাকে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ মার্চ ২০২৫ তারিখে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার আওতাধীন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর হোসানুল হক ও তার সহযোগী শিবিরকর্মীরা অপরাজিত দেবের কাছে ৩ কোটি টাকার চাঁদা দাবি করেন। অপরাজিত দেব এ দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চাঁদা দাবির তিনদিন পর তথা ০২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে, রাজনগর বাজারে বিএনপি নেতা আনোয়ার মিয়া ও তার কর্মীরা অপরাজিত দেবকে অপহরণের চেষ্টা করে এবং তার সংখ্যালঘু পরিচয় তুলে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
তবে, হামলাকারীরা তাতেও ক্ষান্ত হয়নি। গত ৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপরাজিত দেবের উপর পুনরায় হামলা চালানো হয় এবং পরদিন, ৬ এপ্রিল, তার নিজ বসতবাড়িতে সঙ্গবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে তার মাকে গুরুতর আহত করা হয়, পাশাপাশি মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়। বর্তমানে তার মা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই মৌলভীবাজার জেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে, যার মধ্যে অপরাজিত দেবের ঘটনাটি অন্যতম।
এ বিষয়ে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। থানার একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত শুরু করব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতার পালাবদলে সংখ্যালঘু এবং বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারীরা দিন দিন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। অপরাজিত দেবের মত একজন ন্যায়ের পথে থাকা রাজনৈতিক কর্মীর উপর এ ধরনের বর্বর আক্রমণ দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।