• ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৩শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ফের ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

sylhetsurma.com
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ফের ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

Manual7 Ad Code

সিলেট নগরের ইবনে সিনা হাসপাতালের বিরুদ্ধে আবারও ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে।

শনিবার রাতে ওই হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর পর এ অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে রাতভর নগরের সোবহানীঘাট এলাকার হাসপাতালটিতে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বোর্ড মিটিং করে।

নিহত কামাল মিয়া সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দাভ

মারা যাওয়া কামাল মিয়ার মেয়ে জানান, শুক্রবার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ড. মুহিবুর রহমান বিভিন্ন টেস্ট করে জানান রোগীর পেটে পাথর হয়েছে। সার্জারি করতে হবে। তিনি সার্জারি চিকিৎসক আহমদ নাসিম হাসান লাভলুর কাছে আমার বাবাকে রেফার্ড করেন।

রোগীর মেয়ে জানান, অপারেশনের আগে রাত ৯টার দিকে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক লিটন স্বজনদের জানান, রোগীর ব্রেনে টিউমারসহ অন্যান্য শারিরীক জটিলতা রয়েছে। রোগীর অবস্থা ভালো না। তখন আমি জানাই, আমার বাবার এরকম কোন সমস্যা নেই।

নিহতের মেয়ে বলেন, আমি তখন কাগজপত্র চেক করে দেখতে পাই, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের হাতে আমার বাবা কামাল উদ্দিন নয়, ময়না মিয়া নামের এক রোগীর বেশ কিছু রিপোর্ট। এসময় আমি বলি, ‘এগুলো আমার আব্বার রিপোর্ট নয়, অন্যজনের।’

Manual6 Ad Code

মেয়ের অভিযোগ, এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে লিটনসহ অ্যানেসথেসিয়া দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা রিপোর্টগুলো দ্রুত লুকিয়ে ফেলেন এবং রোগীর স্বজনদের ‘এগুলো আপনাদের দেখার বিষয় নয়’ বলে ধমকান ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

Manual3 Ad Code

এসময় রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সার্জারি চিকিৎসক আহমদ নাসিম হাসান লাভলু ঘটনাস্থলে এসে রোগীর স্বজনদের শান্ত করেন এবং কামাল উদ্দিনের শারীরিক অবস্থা ঠিক আছে, কিছুক্ষণের মধ্যে অপারেশন করে ফেলবেন বলে জানান।

Manual8 Ad Code

কিছুক্ষণ পরেই স্বজনদের কিছু না জানিয়ে কামাল উদ্দিনকে হুইল চেয়ারে করে অস্বাভাবিক অবস্থায় অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে নিয়ে যেতে যান হাসপাতালের স্টাফরা। পরে কামাল উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানান সংশ্স্টিরা।

নিহতের মেয়ে বলেন, ভুল রিপোর্ট ধরিয়ে দেওয়ার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক লিটন আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ ঘটনায় ইবনে সিনা হাসপাতালে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে।

Manual2 Ad Code

নিহতের আরেক স্বজন বলেন, ইবনে সিনায় দুএকদিন পরপর এরকম ঘটনা ঘটে। তারা একটা সিন্ডিকেট। তারা কেবল পয়সা চিনে। রোগীর ব্যাপারে কোন নজরদারি নেই। কোন সেবা নেই। কেবল লাখ লাখ টাকা বিল গুণতে হয়।

তিনি বলেন, ইবনে সিনায় এতোটা ঘটনা ঘটেছে, কোন ঘটনার বিচার হয়েছে। দুদিন পরপর এই হাসপাাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যায়। কিন্তু কোন বিচার হয় না।

এ বিষয়ে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের এজিএম ও হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুল হক বলেন, ‘ওই রোগীর স্বজনদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।