বড়লেখায় বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অবহেলায় দোলনায় পা কেটে গুরুতর আহত প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী

sylhetsurma.com
প্রকাশিত মে ১১, ২০২৬
বড়লেখায় বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অবহেলায় দোলনায় পা কেটে গুরুতর আহত প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী

Manual1 Ad Code

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ছোটলেখা দক্ষিণভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খেলতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর অভিভাবক রবিবার (১০ মে) বড়লেখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোটলেখা দক্ষিণভাগ (ছিকামহল) এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন খোকনের ছেলে জায়ান হোসেন স্থানীয় ছোটলেখা দক্ষিণভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত শনিবার (৯ মে) বিদ্যালয়ে নির্ধারিত পরীক্ষা থাকায় সকাল আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে তিনি ছেলেকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। তবে ওই সময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষ খোলা থাকলেও কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Manual2 Ad Code

অভিভাবকের দাবি, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেও শিক্ষকদের কাউকে না পেয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয় থেকে ফোন পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখেন, তার ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে এবং তার পা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পরে তাকে দ্রুত বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার পায়ে ৯টি সেলাই দেন।

Manual7 Ad Code

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের অনুপস্থিতির সুযোগে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খেলাধুলা করছিল। এ সময় বিদ্যালয়ের দোলনার একটি ধারালো অংশে আঘাত পেয়ে জায়ান হোসেনের পা মারাত্মকভাবে কেটে যায়।

আহত শিক্ষার্থীর পিতা জাকির হোসেন খোকন বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সময়মতো উপস্থিত থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত না। আমার সন্তান এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে ভুগছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছি।”

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক নিয়মিত দেরিতে আসেন। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

Manual3 Ad Code

ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

Manual3 Ad Code

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম জুবায়ের আলম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”