• ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

চাঞ্চল্যকর অস্ত্র আইনের মামলার রায়, ৮ জনের যাবজ্জীবন, ১ জন খালাস আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ রাষ্ট্রপক্ষের, উচ্চ আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত আসামিপক্ষের

sylhetsurma.com
প্রকাশিত মে ৭, ২০২৬
চাঞ্চল্যকর অস্ত্র আইনের মামলার রায়, ৮ জনের যাবজ্জীবন, ১ জন খালাস আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ রাষ্ট্রপক্ষের, উচ্চ আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত আসামিপক্ষের

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা বহুল আলোচিত জালালাবাদ থানার মামলা নং-১৩, তাং-১৯/০৫/২০১৯ ইং, জিআর মামলা নং- ১৮০/২০১৯ ইং, দায়রা মামলা নং- ৪২১/২০১৯ ইং মামলায় গতকাল রায় প্রচার হয়েছে।  মাননীয় মহানগর দায়রা জজ আদালত, সিলেট এর বিজ্ঞ বিচারক মোঃ হাবিবুর রহমান উক্ত রায় প্রচার করেন। উক্ত রায়ে ৯ জন আসামীর মধ্যে আসামী- ১। মো: জয়নুল ইসলাম (৩০), ২। সমছু আহমেদ (৩১), ৩। মো: রুবেল আহমেদ (২৮), ৪। মোঃ ছাব্বির হোসেন (২৬), ৫। আব্দুল্লাহ আল মাহি (২১), ৬। মো: মহি উদ্দিন (৪২), ৭। মোঃ সুজন মিয়া (৩০), ৮। মোঃ রাজু আহমেদ (২৪) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ০৬ (ছয়) মাস করিয়া কারাদন্ড দেয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে এবং আসামী মোঃ মামুনকে অত্র মামলা থেকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উপস্থাপিত আলামত পর্যালোচনা শেষে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৯/০৫/২০১৯ ইং তারিখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সুবিদ বাজার আনিছা এন্টারপ্রাইজ নামক দোকান থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করে। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাবি করে, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, জন্ম তালিকা, ফরেনসিক প্রতিবেদনের তথ্য এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করলে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, আদালতে বলেন, অবৈধ অস্ত্র সমাজে অপরাধ, সহিংসতা ও জননিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে। এ ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তি না হলে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ আদালতে দাবি করেন, আসামীদেরকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং উদ্ধার দেখানো আলামত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণে নানা অসঙ্গতি রয়েছে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামীদেরকে খালাস দেওয়া উচিত ছিল। তবে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও নথিপত্রকে অধিক গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেন।
রায় ঘোষণাকালে বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, “ অবৈধ অস্ত্র সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে অস্ত্র আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।” আদালত আরও উল্লেখ করেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আইনের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা দ্রুত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সংগ্রহ করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তাদের দাবি, মামলায় বেশ কিছু আইনি ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি রয়েছে, যা উচ্চ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।