মৌলভীবাজারে এনসিপি নেতা অপহরণ: পুলিশের তদন্তে যা মিলল

sylhetsurma.com
প্রকাশিত জুন ২৭, ২০২৬
মৌলভীবাজারে এনসিপি নেতা অপহরণ: পুলিশের তদন্তে যা মিলল

Manual5 Ad Code

মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দলের এক নেতাকে অপহরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই নেতা শ্রীমঙ্গল থানায় গিয়ে আইনগত সহায়তা চাইলে ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ।

শ্রীমঙ্গল থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখার মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদের নেতৃত্বে দলের কয়েকজন সদস্য তার গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়।

Manual6 Ad Code

অভিযোগে তিনি বলেন, এ সময় তাকে দলের আরেক নেতা এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ালে হত্যা করে গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা চলে যায়।

ভুক্তভোগীর দাবি, কুলাউড়ায় কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের সফর উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট মতবিরোধ ও সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত।

Manual1 Ad Code

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় জেলা এনসিপির সদস্যসচিব রুহুল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া এবং ছাত্রশক্তি, যুবশক্তিসহ দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে দাওয়াত প্রদান, কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িতে অবস্থান নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়।

Manual1 Ad Code

পরে কুলাউড়ায় কর্মসূচি চলাকালীনও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজার শহরের শমশেরনগর রোড এলাকায় আবারও এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল হুসাইনের তর্কাতর্কি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

Manual5 Ad Code

এরই ধারাবাহিকতায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের কোদালিপুর এলাকার জাম্বু মিয়ার গ্যারেজের পেছন থেকে তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাটি এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে ঘটেছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। অভিযোগে দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার বিষয়ও উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।