৩১ মার্চের মধ্যে সকল ভাড়াটিয়াদের জীবন বৃত্তান্ত পুলিশের কাছে দেওয়ার আহবান

প্রকাশিত: ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০১৭

সিলেট সুরমা ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মঘাতী ও দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকার আতিয়া মহলে জঙ্গিদের ভয়ঙ্কর অবস্থান এবং গ্রেনেড ছুড়াছুঁড়িতে আতঙ্কে সিলেট সদরের পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোলাপগঞ্জ। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ সদর দফতর থেকে সারা দেশে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক বার্তার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এ নিয়ে গোটা উপজেলাবাসী জঙ্গি আতঙ্কে। তাদের নিত্যনতুন কৌশল পুলিশ ও গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় তেল গ্যাসের ৫টি কূপ রয়েছে। চারটি হচ্ছে পৌরসভায়। টিকরবাড়ী এলাকায় রয়েছে কৈলাশটিলার ১টি গ্যাস কূপ ও ৩টি তেল কূপ। এছাড়া গোলাপগঞ্জ সদর ইউপির চকরিয়া নামক স্থানে রয়েছে বিশাল আকারের তেল কূপ। এসব প্রতিষ্ঠানের চারদিকে রয়েছে একাধিক বাসাবাড়ী। এ উপজেলায় প্রায় শতাধিক ভাড়াটিয়া বাসা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় অনেকে বলছে এসব প্রতিষ্ঠানকে পুঁজি করে জঙ্গিরা বাসা ভাড়া নিতে পারে। কারণ এ পৌরসভাতে বাসার সংখ্যা বেশি। তাই পুলিশ প্রশাসন আরো সচেতন হওয়া দরকার। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোন দরণের চেকপোস্ট বা তল্লাশি চালানো হয়নি। তবে থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই থানার মেইন গেইটসহ ৩টি গেইট বন্ধ থাকতে দেখা যায়। থানার মূল ভবনের কেছি গেইতে দুই’জন ছেন্ট্রি রয়েছেন সার্বক্ষণিক। একজন পুরুষ ও একজন মহিলা। পেছনের কেছি গেইটও তালাবদ্ধ। থানায় ঢুকার সময় অপরিচিতদের শরির তল্লাশি করতে দেখা যায়। তবে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিরা আত্মঘাতী ঘটানোর পর থেকে থানা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।  অপরদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে থানা প্রশাসন বাসা-বাড়ীর মালিকদের উদ্দেশ্য মাইকিং বের করে। মাইকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সকল ভাড়াটিয়ার জীবন বৃত্তান্ত থানায় নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য। জঙ্গিবিরোদী পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন জঙ্গিরা সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট না করলেও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তাদের বিশেষ ক্ষোভ রয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীকে  তাদের কাজে বাধা হিসেবে মনে করছে তারা।  এ জন্য “তাণ্ডুত শক্তি”র ওপর আক্রমনের চেষ্টা করছে।  গোলাপগঞ্জের সার্জেন্ট তপন তালুকতার জানান, থানার ৮/১০ জন পুলিশ নিয়ে আমাদের চেকপোষ্ট অভিযান চলছে। গতকাল এওলাটিকরে চেকপোষ্ট বসিয়ে বিভিন্ন জাতের মাইক্রো বাস ও সিএনজি অটোরিক্সার পিছন তল্লাশি করা হয়। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন,উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং বাসা, বাড়ী, কলোনী মালিকদের ভাড়াটিয়াদের ভাড়া দেয়া সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র দেয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ