• ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অগ্রগতি পরিদর্শন তিন উপদেষ্টার

sylhetsurma.com
প্রকাশিত মে ৮, ২০২৫
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অগ্রগতি পরিদর্শন তিন উপদেষ্টার

Manual7 Ad Code

বৃহস্পতিবার বিমান ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিমানবন্দরটির তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। ছবি : পিআইডি

ঢাকা, ৮ মে, ২০২৫ (বাসস) : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা।

আজ বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিমানবন্দরটির তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শনের সময় উপদেষ্টারা অত্যাধুনিক এই টার্মিনালটির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ও পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন।

তৃতীয় টার্মিনালটি চালু হয়ে গেলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের বিমান চলাচলের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিদর্শনের পর উপদেষ্টারা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে একটি উপস্থাপনা অধিবেশনে যোগ দেন। সেখানে কর্মকর্তারা সম্প্রসারণ প্রকল্পের মূল উপাদান এবং এর ভবিষ্যত পরিচালনা পদ্ধতি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অধিবেশনে ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

Manual7 Ad Code

এই সময় প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরীন জাহান, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়াসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত এপ্রিলে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিষেবাসহ তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার কৌশল প্রণয়ন ও তদারকির জন্য সুপারিশ করতে বলা হয়।
কমিটিতে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরীন জাহান, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া।

টার্মিনালটি যাতে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয় এবং দেশে-বিদেশে ভ্রমণকারীদের জন্য বিশ্বমানের পরিষেবা প্রদান করা হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Manual6 Ad Code

এর আগে জানুয়ারিতে বেবিচক ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ টার্মিনালটি উদ্বোধনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছিল।
গত ১৬ জানুয়ারি বেবিচক সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, যেকোনো মূল্যে আমরা এই বছরের শেষ নাগাদ এটি চালু করব।

তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়। এতে ২১ হাজার ৩শ’ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা অবদান রেখেছে, অবশিষ্টটা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)অর্থায়ন করেছে।

Manual5 Ad Code

২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত টার্মিনালটিতে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি প্রস্থান ইমিগ্রেশন বুথ, ৫৯টি আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং তিনটি নিবেদিত ভিআইপি ইমিগ্রেশন কাউন্টার রয়েছে।

Manual1 Ad Code

সম্পূর্ণরূপে চালু হলে নতুন টার্মিনালটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করবে। বিমানবন্দরটি বছরে ৮০ লাখ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা অর্জন করবে। পণ্য পরিবহনের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বছরে ৫ লাখ টন থেকে দশ লাখ টনেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে।