সিলেটের গোয়াইনঘাটে ইয়াহিয়া হত্যা মামলার পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব বলছে, ঘটনাটি ক্লুলেস হলেও ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (৫৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানার নাইন্দা হাওর এলাকার ইয়াহিয়া (২২) সাতজনের একটি দলের সঙ্গে ১২০ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করতেন। তারা পালাক্রমে দিনরাত ক্ষেত পাহারায় থাকতেন। গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ইয়াহিয়া আরও দুজন সহকর্মীকে নিয়ে ক্ষেতে পাহারা দিচ্ছিলেন। তবে পরদিন ৬ মার্চ ইফতারের সময় বাড়ি না ফিরলে পরিবার খোঁজ নিতে শুরু করে। তার সঙ্গে থাকা সহকর্মীরাও কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
সন্ধ্যার পর স্থানীয় দুই ব্যক্তি পরিবারকে ফোন করে জানান যে, তারা পিয়াইন নদীতে মাছ ধরার সময় চিৎকার শুনে এগিয়ে গিয়ে নদীতে ইয়াহিয়াকে ভাসতে দেখে তীরে তুলে আনেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে তাকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সিলেটে পৌঁছানোর আগেই রাতে ইয়াহিয়ার মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা যোগসাজশে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে তাকে অচেতন করে মৃত ভেবে নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার পর ইয়াহিয়ার ভাই গোয়াইনঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর র্যাব–৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব–৯ এর সদর কোম্পানির একটি দল শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভোরে গোয়াইনঘাটের জাফলং মামার বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মামলার এক পলাতক আসামিকে আটক করা হয়। আটককৃত মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (৫৪) সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানার লামা সাতাইন এলাকার মৃত জমির আলীর ছেলে।