এলাকাবাসীর বিক্ষোভে মিশে গিয়েছিল জাকিরও, তারপর যেভাবে গ্রেপ্তার

sylhetsurma.com
প্রকাশিত মে ১২, ২০২৬
এলাকাবাসীর বিক্ষোভে মিশে গিয়েছিল জাকিরও, তারপর যেভাবে গ্রেপ্তার

Manual2 Ad Code

সিলেটে শিশু ফাহিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে আন্দোলনে নামেন সোনাতলা এলাকাবাসী। এই আন্দোলনকারীদের সাথে মিশে গিয়েছিল অভিযুক্ত জাকির হোসেনও।

এমনকি পুলিশ এলাকায় গিয়ে ফাহিমার হত্যাকারীদের খোঁজতে অভিযানে নামলে জাকিরও তাদের সাথে অংশ নেন। পরে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক তথ্য।

এমন তথ্য জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)-এর উপ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর এলাকাবাসী যখন শিশুটিকে খুঁজছিল, তখন অভিযুক্ত জাকিরও তাদের সঙ্গে ছিল। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময়ও সে মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা সকলে এলাকায় গিয়েছি, আমি নিজে গিয়েছি। থানার নারী-পুরুষ সব সদস্য গিয়েছি, আমরা চেষ্টা করেছি, মানুষের সঙ্গে মিশে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে। সেও (জাকির) চালাক প্রকৃতির। সেও আমাদের সঙ্গে মিশে মিশে এই ঘটাগুলো সে দেখেছে। এরপর চাপ যখন বেশি পড়েছে তখন সে নিজেই এগুলো বের করেছে।

Manual7 Ad Code

জাকিরকে সন্দেহ হওয়ার কারণ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনের পর সাইফুল ইসলাম সিলেটটুডেকে বলেন, আমাদের প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল এলাকার কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই এলাকার প্রতিটি মানুষের তথ্য আমরা সংগ্রহ করছিলাম। ওই এলাকায় আমরা তিনজন সন্দেহভাজনকে সনাক্ত করি। যারা মাদকাসক্ত বা পূর্বে এধরণের কাজের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে জাকিরকে আটক করে সব স্বীকার করে।

এরআগে সংবাদ সম্মেলনে জাকিরের জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় জাকির। ওই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে সেটি সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

Manual7 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।

Manual4 Ad Code

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত সরাসরি অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Manual6 Ad Code

মাদক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেট মহানগরে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।

সোমবার রাতে জাকিরকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।

গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল।