• ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সুনামগঞ্জে কোরবানির পশুর হাট: গরু বেশি, ক্রেতা কম

sylhetsurma.com
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৬
সুনামগঞ্জে কোরবানির পশুর হাট: গরু বেশি, ক্রেতা কম

Manual8 Ad Code

ঈদুল আযহার আর মাত্র ৮দিন বাকী। এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ও ভমবমি বাজারের কোরবানির পশুর হাট। বাজারগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে খামার ও গৃহপালিত দেশি বিদেশি ছোট-বড় গরু। এসব গরু কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতা। কেউ কেউ দেখছেন আবার কেউ কেউ দাম হেঁকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

তবে বড় গরুর খুব একটা চাহিদা নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বড় গরুর তুলনায় মাঝারি মানের গরুর কাটতি বেশি বলে জানিয়েছেন তারা। বিক্রেতারা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বড় গরু এমনকি সব ধরণের গরুর সংখ্যা বাজারে বেশি। পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যার পূর্বাভাসই এর অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন বাজারে আসা বিক্রেতারা।

মঙ্গলবার উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর হাট বসে পাথারিয়া বাজারে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার গরুর উপস্থিতি। শত শত মানুষ। তাদের বেশিরভাগই সাধারণ বিক্রেতা ও পাইকার শ্রেণির। ক্রেতার পরিমাণ খুব বেশি না হলেও আশিল ঘরে অনেক ভিড়। কিছু গরু বিক্রি হচ্ছে, তবে সেগুলো মাঝারি মানের গরু। বড় গরু নিয়ে বলতে গেলে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা।

হাটের মূল অংশে গরু রাখার জায়গা নেই। ছোট গরুর পাশাপাশি বড় গরুতে ভরপুর পাথারিয়া বাজার। সুরমা নদীর পাড়, বাজারের অন্যান্য গলি, কাঁচা বাজার, মাছ বাজারসহ চতুর্দিকে ছড়িয়ে চিটিয়ে গরু নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। গরু বিক্রি করতে আসা লোকজনরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর গরু বেশি ও দাম কম, সেই সাথে ক্রেতাও কম। তবে বিক্রেতাদের প্রত্যাশা আগামী দু’চারদিনের মধ্যেই জমে উঠবে তাদের প্রত্যাশিত কোরবানির পশুর হাটের বেচাকেনা। এদিকে, একই অবস্থা উপজেলার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত দরগাপাশা ইউনিয়নের ভমবমি বাজারের কোরবানির পশুর হাটেরও।

Manual7 Ad Code

পাথারিয়া বাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬টি গরু বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন দিরাই থানাধীন শরীফপুর গ্রামের গরুর ব্যাপারী ইসলাম উদ্দিন। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত আকারে ছোট এমন ৩টি গরু বিক্রি করে তিনি রীতিমতো হতাশ। বাকী ১৩টি বড় গরুই তাঁর অবিক্রিত রয়েছে। তিনি বলেন, বড় সাইজের গরু নিয়ে আমি ভীষণ বিপদে আছি। বিক্রি হচ্ছে না। লোকজন আসে, দেখে। পছন্দ হয়, কিন্তু দামে পোষায় না বলে আর বিক্রি করতে পারছি না। আর সেই তুলনায় ক্রেতাও খুব বেশি না। যদি গরুগুলো যথাসময়ে বিক্রি করতে না পারি তাহলে আমার প্রায় ৬ লক্ষা টাকা ক্ষতি হবে।

পাথারিয়া এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা প্রতি বছরই দেখি আমাদের এলাকায় কেমন গরু আসে। এবছর আমাদের বাজারে গরুর সংখ্যা বেশি, তবে ক্রেতার সংখ্যা কম। গরুর দামও কম, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে। এর কারণ হিসেবে পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যার পূর্বাভাস বলে মনে করেন তিনি।

Manual1 Ad Code

পাথারিয়া বাজারে গরু কিনতে এসেছেন সুনামগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমল থেকেই পাথারিয়া বাজারের ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে প্রচুর গরু এসেছে। বড় গরুগুলো দেখতেও সুন্দর। মানুষ এখন গরু দেখছেন, হয়তো দু’একদিন পরে কিনবেন। আমি নিজেও দুইটি গরু দেখেছি। ভালো লেগেছে। দরদাম চলছে। আরেকটু দেখবো, না হলে এগুলোই কিনে নেবো।

ভমবমি বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিতু মিয়া বলেন, আমাদের বাজারে এবছর ভালো গরু এসেছে। বড় গরুর কাটতি কম। মানুষ এখন মাঝারি মানের গরুই বেশি ক্রয় করছেন। তবে আশা করছি আগামী দু’একদিনের মধ্যে বাজার আরো ভালো করে জমে উঠবে। তবে বৃষ্টি বাদল যদি না হয় এবছর ভালো ব্যবসা হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

Manual6 Ad Code

পাথারিয়া বাজারের ইজারাদার আবদুল মোমিন বলেন, পাথারিয়া বাজারে প্রচুর গরু আসে। দেশি-বিদেশি গরু আসে আমাদের বাজারে। ক্রেতা-বিক্রেতারা ভালো সুবিধা পাবেন আমাদের এখানে। আশিলের দিকেও আমি যথেষ্ট ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

Manual8 Ad Code