ফেসবুক পোস্টের জেরে প্রবাসী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, বাসায় তল্লাশি

sylhetsurma.com
প্রকাশিত জুন ২৬, ২০২৬
ফেসবুক পোস্টের জেরে প্রবাসী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, বাসায় তল্লাশি

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমকে অপসারণ এবং সরকারি উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগসংবলিত একটি পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় প্রবাসী সাংবাদিক খালেদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর তাঁর সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-৯-এর একটি দল তাঁর বাসায় অভিযান চালায়। এর আগে বুধবার রাতে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি দলও সেখানে তল্লাশি চালায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর আম্বরখানার বাদামবাগিছা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল খালিকের ছেলে সাংবাদিক খালেদুর রহমান বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিয়মিত সমালোচনামূলক লেখা প্রকাশ করে আসছেন। গত ২২ জুন তিনি ডিসি সারওয়ার আলমের বদলিকে কেন্দ্র করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ঘুষ ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জুন জেলা যুবদল নেতা এখলাছ মুন্না সিলেট জেলা যুগ্ম জজ আদালতে মিথ্যা তথ্য প্রচার, মানহানি এবং সাইবার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, খালেদুর রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে অপসারণ করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং সেই অর্থ সরকারি উচ্চপর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি তিনি দেশের প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেন। বাদীপক্ষের দাবি, এসব বক্তব্য ভিত্তিহীন, মানহানিকর এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উসকানি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে।
এদিকে, মামলার পর গত বুধবার রাত প্রায় ১১টার দিকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের একটি দল বাদামবাগিছা এলাকার ওই বাসায় তল্লাশি চালায়। বাসায় তখন ভাড়াটিয়া, তার স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তানরা অবস্থান করছিলেন। উপস্থিত ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযানের সময় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরদিন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব-৯-এর একটি দলও একই বাসায় তল্লাশি চালায়।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুর রহমান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।