খাদিজা হত্যাচেষ্ঠা আদালতে চার্জশীট গ্রহণ : চার্জ গঠন ২৯ নভেম্বর

প্রকাশিত: 10:07 PM, November 15, 2016

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম হত্যাচেষ্টার মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র)  গ্রহণ করে আগামী ২৯ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।  মঙ্গলবার সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সরাবন তহুরার আাদলতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) উপস্থাপন করলে বিচারক অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এক আদেশে মামলার মুল নথি চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো আদালতে প্রেরণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মাহফুজুর রহমান জানান, ২৯ নভেম্বর এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য সিলেটের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময় আসামী বদরুল আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৮ নভেম্বর মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে খাদিজাকে কোপানোর দায়ে এককভাবে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে দায়ী করে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। চার্জশিটে (অভিযোগপত্র) ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ৩৬ জনকে রাখা হয়েছে। আলামত হিসেবে খাদিজাকে কোপানোর চাপাতি, খাদিজার রক্তমাখা জামা, মুঠোফোনে ধারণ করা খাদিজাকে কোপানোর একটি ভিডিও ফুটেজ ও বদরুলকে ধরা ও গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দের আরও দুটো ভিডিও ফুটেজ ডিভিডি করে চার্জশিটের (অভিযোগপত্র) সঙ্গে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর বিকেলে এমসি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে বিএ (পাস) পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বদরুল। ঘটনার পরপরই জনতা ধাওয়া করে বদরুলকে ধরে পুলিশে দেন। খাদিজাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা।
সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামে খাদিজার বাড়ি। তাঁর বাবা মাসুক মিয়া সৌদিপ্রবাসী। ঘটনার পরদিন ৪ অক্টোবর সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বদরুল ৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
বদরুল আলম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি শেষ বর্ষের অনিয়মিত শিক্ষার্থী। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মানিজ্ঞাতি গ্রামে। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বদরুলকে স্থায়ী বহিস্কার করা হয়েছে।  খাদিজাকে বদরুলের কোপানোর ভিডিওচিত্র মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। বদরুলের দ্রুত বিচারের দাবিতে গত প্রায় এক মাস সিলেটসহ সারা দেশে প্রতিবাদী নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ