জৈন্তার পটকা ট্রাজেডি আতংক আশপাশের উপজেলায়

প্রকাশিত: ১০:৫৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০১৬

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের জৈন্তাপুরে পটকা মাছ খেয়ে ৬জনের মৃত্যুর ঘটনায় আতংক দেখা দিয়েছে বিভিন্ন উপজেলায়। এছাড়াও জৈন্তাপুরের কয়েকটি গ্রামের ৪১জন সিলেট শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) ৬জনের জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। একি সাথে ৬জনের মৃত্যু ও অর্ধশতাধিক শিশু,নারী, পুরুষ শহরের ক্লিনিকে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় উপজেলা জুড়ে শোকের মাতম বইছে। এদিকে মঙ্গলবার দুপুর থেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে পকটা বাজারে বিক্রয় নিষিদ্ধ করে মাইকিং করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন ৯ জনের আবস্থা আশংঙ্কা জনক বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বিষিয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু,নারী, পুরুষ শহরের ক্লিনিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুস ছবুর মিঞা বাংলা ট্রিবিউন’কে জানান, হাসপাতালে নারী পুরুষসহ ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন আছেন আরও ৯জন। সার্বিক দিক থেকে চিকিৎসাধীন সকলেরই অবস্থা এখন ভালো। পটকা মাছ খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদেরকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে গঠিত মেডিকেল বোর্ড।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দরবস্ত ইউনিয়নের উত্তর মহাইল, লামা মহাইল, কুড়গ্রাম, গর্দ্দনা, বারগাতি, খলাগ্রাম, চারিকাটা ইউনিয়নের থুবাং, বনপাড়া গ্রামের আরও প্রায় ৪০জন শিশু, মহিলা, পুরুষ ও বৃদ্ধরা রোগে আক্রান্ত হয়ে সিলেট শহরের ওয়েসিস হাসাপাতাল, রাগিব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতাল, মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল ও সিলেট এম.এ.জি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক আরও ৯জন আই.সি.ইউতে ভর্তি রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনও এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিস হেলথ ম্যানজমেন্টের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মাহবুব আলম জানান, পটকা মাছ একটি বিষযুক্ত মাছ। বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রজনন কালে ওই মাছটির অঙ্গপতঙ্গ নতুন করে জন্মায়। যার কারণে এ মাছের প্রতিটি অঙ্গপতঙ্গে বিষ রয়ে যায়।  তবে এ মাছটি খাওয়া যায়, মাছটি রান্না করার আগে পটকা মাছের পেটের ভেতরের ডিম ও নাড়িবুড়িসহ অঙ্গপতঙ্গ কেটে ফেলে রান্না করলে কোন ধরনের সমস্যা হবে না। পটকা মাছ খেয়ে যারা মারা গেছেন- ওই দিন বিকাল ৪টার দিকে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান দরবস্ত ইউনিয়নের উত্তর মহাইল গ্রামের আব্দুর রহিম(৬০) তার ছেলে সোলেমান হোসেন(৩০), লোকমান হোসেন(২৮), পার্শ্ববর্তী বাড়ীর সৌদী প্রবাসী আনিছুল হকের মেয়ে ২য় শ্রেণীর ছাত্রী মনি বেগম(১০), প্রথম শ্রেনীর ছাত্র রাহিম আহমদ(৮)। সর্বশেষ বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে মারা যান উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের থুবাং গ্রামের সোহা মিয়ার স্ত্রী সিফাতুন নেছা(৬০)। এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার সব কয়েকটি বাজারে পটকা, পিরানহা, ফরমালিন যুক্ত এবং পচাঁ মাছ বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে মাইকিং করা হয়েছে বলে জানান জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০