আসিয়ানের সঙ্গে অংশীদারিত্বে জাকার্তার সমর্থন কামনা ঢাকার

প্রকাশিত: ১১:৪৬ অপরাহ্ন, জানুয়ারী ২৮, ২০১৮

সিলেট সুরমা ডেস্ক : আসিয়ানের সঙ্গে আঞ্চলিক সংলাপ অংশীদারিত্বের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের পক্ষে জাকার্তার সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। এর জবাবে ইন্দোনেশিয়া আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনীতি, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে তাঁর সরকারের গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ জন্য ইন্দোনেশিয়ার সহায়তা কামনা করেন।
ইন্দোনেশিয়ার সফররত প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে আসিয়ানে আরো সক্রিয় সম্পৃক্ততার জন্য বাংলাদেশকে প্রণোদিত করেন। আজ দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গতকাল ঢাকা পৌঁছেন।
প্রেসিডেন্ট উইদোদো রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে শরণার্থীদের নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের বসতভিটায় ফিরে যেতে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ধ্বংসযজ্ঞে নিপতিত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গৃহীত প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শি নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট উইদোদো আস্থার সঙ্গে বলেন যে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে।
প্রধানমন্ত্রী গণমুখী নেতৃত্ব ও কল্যাণমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী আসিয়ান এবং ওআইসি’তে জাকার্তার গণমূলক ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
অভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম ও ভাষাগত ঐতিহ্যের ভিত্তিতে দু’দেশের সম্পর্কের কথা পুনরুল্লেখ করে তাঁরা পারস্পরিক কল্যাণের মাধ্যমে উভয় দেশের অংশীদারিত্বমূলক সমৃদ্ধিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে একমত পোষণ করেন।
উভয় নেতা পররাষ্ট্র বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। এর জয়েন্ট কমিশনের তৃতীয় বৈঠক চলতি বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
তাঁরা এলএনজি আমদানীর জন্য বাংলাদেশের পেট্রোবাংলা ও ইন্দোনেশিয়ার পারতামিনার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উভয় নেতা দু’দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা সম্পর্কিত চুক্তিকে স্বাগত জানান। তাঁরা দু’দেশের বেসরকারি খাতের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি দেন। তাঁরা সমুদ্র সম্পর্কিত সহযোগিতা ও ব্লু-ইকোনমির ব্যাপারে দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার স্বীকৃতি দেন। তাঁরা অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধে স্বাক্ষরিত যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
দ্ইু নেতা উভয় দেশের মানুষের মাঝে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটন, বাণিজ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণেনর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁরা দু’দেশ ও এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থার মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।
উভয় নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জনক সুকর্ন’র মধ্যকার সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
এ ক্ষেত্রে তাঁরা বিশেষ করে ন্যাম’র কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার প্রথম দিকে ১৯৭২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার সরকার ও জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রেসিডেন্ট উইদোদো তাঁকে ও তাঁর সফরসঙ্গীদের উষ্ণ আতিথেয়তার প্রশংসা করেন।
তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ইন্দোনেশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। ২৮ জানুয়ারি, ২০১৮ (বাসস)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •