যে কারণে খুন হলেন আফিয়া

sylhetsurma.com
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২২
যে কারণে খুন হলেন আফিয়া

Manual4 Ad Code

সিলেট সুরমা ডেস্ক : সিলেট নগরের বালুচরের ভাড়া বাসায় আফিয়া বেগম সামিহা (৩১) খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত মোছা. মাজেদা খাতুন মুন্নি (২৯) আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।

আফিয়াকে খুন করতে তার কথিত স্বামী নিয়াজেরও সম্মতি ছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন মুন্নি।

এদিকে রিমান্ড শেষে নিহত আফিয়ার কথিত স্বামী নিয়াজ খানকে রোববার (২৮ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তবে তার কাছ থেকে কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

Manual1 Ad Code

শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান রোববার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় সিলেটটুডেকে বলেন, ‘‘নিয়াজের রিমান্ড শেষে রোববার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। এছাড়া মুন্নিকে গ্রেপ্তারের পরদিন আদালতে নেওয়া হয়েছিল। আদালতে মুন্নি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে মুন্নি বলেছেন, ‘‘নিয়াজ ও আফিয়ার সাথে মুন্নির অনেক দিনের পরিচয়। টাকা পাওয়ানা নিয়ে আফিয়ার সাথে তার (মুন্নির) মনোমালিন্য চলছিল। টাকা নিয়ে মনোবিবাদের কারণে আফিয়াকে মারার জন্য নিয়াজ মুন্নিকে ফুসলিয়েছে। আফিয়াকে হত্যা করলে মুন্নিকে আর্থিক সহযোগিতা করবে বলেও নিয়াজ আশ্বাস দিয়েছিল।’’

অপরদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বালুচরের ওই ভাড়া বাসায় মুন্নি-আফিয়া অসামাজিক কার্যকলাপ চালাতেন। তাদের সহযোগিতা করতেন আফিয়ার কথিত স্বামী ইসমাইল নিয়াজ খান। এক পর্যায়ে আফিয়ার সঙ্গে মাজেদার ৭০ হাজার টাকার লেনদেন নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়। অপরদিকে নিয়াজের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না আফিয়ার। এ অবস্থায় নিয়াজের কথায় ও নিজের আক্রোশ মেটাতে আফিয়াকে খুন করেন মাজেদা। আফিয়াকে হত্যার জন্য মাজেদাকে ২ লাখ টাকা দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন নিয়াজ। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মাজেদা এমনটি জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার দিবাগত (২৪ আগস্ট) রাতে নগরের বালুচরের সোনার বাংলা আবাসিক এলাকার বাসায় দরজার তালা ভেঙে আফিয়া বেগম সামিহার (৩১) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আফিয়া বেগম (৩১) গোয়াইনঘাটের আজির উদ্দিনের মেয়ে।

এ খুনের ঘটনায় র‌্যাব আফিসার বাসার সাবলেট মাজেদা খাতুন মুন্নি ও পুলিশ কথিত স্বামীকে নিয়াজকে গ্রেপ্তার করে।

Manual3 Ad Code

গ্রেপ্তারের পর নিয়াজকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে নিলেও তার কাছ থেকে কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

তবে গ্রেপ্তারকৃত মোছা. মাজেদা খাতুন মুন্নি আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সেকান্দর মহলের নিচতলার ওই ইউনিটটি প্রায় দুই বছর আগে ভাড়া নেন আফিয়া বেগম। এরপর থেকে তিনি তার শিশুকন্যা নিয়ে একাই ওখানে থাকতেন। গত ১৮ আগস্ট থেকে প্রতিবেশীরা আফিয়াকে দেখতে পাননি। মঙ্গলবার রাতে তার ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এতে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সন্দেহ হয় এবং দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তারা দেখতে পান- আফিয়ার ইউনিটের দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া। এরপর তারা পুলিশে খবর দেন।

Manual2 Ad Code

খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজার তালা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে আফিয়ার মরদেহ খাটের পড়ে থাকতে দেখে। মরদেহ থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বের হচ্ছিলো। মৃতদেহের পাশেই অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় আফিয়ার শিশুকন্যা নুরিকে। তখন পুলিশ শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে দেখে দ্রুত তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসা শেষে শিশুটি এখন সুস্থ এবং পুলিশের হেফাজতে আছে।

Manual1 Ad Code

এ ঘটনায় বুধবার (২৪ আগস্ট) রাতে নিহত আফিয়া বেগমের মা কুটিনা বেগম বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় অজ্ঞানামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।