স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বন্ধুয়া গ্রামে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও প্রবাসী সাংবাদিক বশির আহমদের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাড়ির কেয়ারটেকার কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা ময়না মিয়া গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গতকাল বুধবার এই হামলা চালানো হয়। ২০১১ সালে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সংঘটিত আনোয়ার আলী হত্যা মামলায় বশির আহমদ, তার ভাই হোসেন আহমেদসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে হোসেন আহমেদকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও বশির আহমদসহ অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে বিচার শেষে ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই বশির আহমদসহ চারজনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করায় বশির আহমদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় লোকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যা মামলার পর থেকেই বশির আহমদ স্বপরিবারে প্রবাসে অবস্থান করছেন এবং তার পরিবারের কোনো সদস্য পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করেন না। বাড়িটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন কেয়ারটেকার ময়না মিয়া, যিনি পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছেন। অন্যদিকে, বশির আহমদের বড় ভাই হোসেন আহমেদ নিজ বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দুরে বৈরাগী বাজার এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত বুধবার দুপুরে হোসেন আহমেদ তার সৌদি প্রবাসী শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে বাবা মায়ের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় মৃত আনোয়ার আলীর বাবা তাজ উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ভুলবশত ধারণা করেন যে বশির আহমদ দেশে ফিরেছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হোসেন আহমেদ ও তার শ্যালক দ্রুত মোটরসাইকেলে করে স্থান ত্যাগ করেন। পরে তাজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা বশির আহমদদের পৈতৃক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাড়িতে বশির আহমদ বা তার পরিবারের কাউকে না পেয়ে কেয়ারটেকার ময়না মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ময়না মিয়া অভিযোগ করেন, পূর্বের হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বশির আহমদের পরিবারের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করা হচ্ছিল। এরই জেরে প্রতিহিংসামূলকভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় তার বাম হাত ও বাম পা ভেঙে গেছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।