গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামি সাবেক যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তিনি গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের নিজ ঢাকাদক্ষিণ মুসলিমপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের পুত্র। বৃহস্পতিবার বিকেলে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল তার নিজ বাড়িতে তল্লাশি চালায়, তবে অভিযানের সময় তাকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক রয়েছেন। ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে তার নিজ বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে তার অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানোর পর তারা আশপাশের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলেন। এ সময় নজরুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে কেউ তথ্য জানলে তা গোপন না করার জন্য সতর্ক করা হয় বলে জানা গেছে। মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
নজরুল ইসলামের চাচাতো ভাই জাহিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আতংকে নজরুলের মা রোকিয়া চৌধুরী তার মেয়ের বাড়িতে থাকেন। অভিযানের সময় বাড়িতে তিনি ও তার এক চাচা খাজা মইন উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের খোঁজ করতে এসে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তার অভিযোগ, তল্লাশির সময় পুলিশ সদস্যরা চাচা ও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে খুঁজে না পেয়ে তাকে টেনে হিচড়ে ঘর থেকে বের করে এনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছেন।
তবে পরিবারের এসব অভিযোগ নাকচ করেছে পুলিশ। গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের দাবি, ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় ওয়ারেন্টভূক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গ্রেফতারের অভিযান চলমান থাকবে এবং তার সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।