সংবাদ সংগ্রহে নারী সাংবাদিককে শরিয়ত সম্মতভাবে আসতে হবে: মুফতি ফয়জুল করীম

sylhetsurma.com
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংবাদ সংগ্রহে নারী সাংবাদিককে শরিয়ত সম্মতভাবে আসতে হবে: মুফতি ফয়জুল করীম

Manual7 Ad Code

সংবাদ সংগ্রহে নারী সাংবাদিকদের শরিয়ত সম্মতভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেছেন, ‘নারী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদের কোনো বাধা নেই। তবে ইসলামী আন্দোলনের দলীয় অনুষ্ঠান বা ইসলামপন্থি কোনো আয়োজনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এলে পর্দা করে আসা উচিত।’

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নারী সংবাদকর্মীরা সামনে বসবেন, নাকি পেছনে বসবেন? সেই প্রশ্নের সূত্র ধরে ‘পর্দা করার’ প্রসঙ্গ তোলেন ফয়জুল করিম। তিনি বলেন, ‘আমার কথা হইল, আমার কোনো বোন যদি আসে, শরিয়ত সম্মতভাবে আসবে। আমরা সেটাকে বাধা দিচ্ছি না।’

Manual8 Ad Code

তিনি বলেন, ‘যারা শরিয়তকে মানেন, আমার বোনটারও উচিত।’

দলটির নেতা নারীদের সঙ্গে টকশো করতে যান, মহাসচিবসহ অনেকে টকশো করেছেন, সাংবাদিকদের মধ্য থেকে এমন কথা তোলা হলে তিনি বলেন, ‘না, না, এটা ঠিক না। এ তথ্যটাও ঠিক না; মহাসচিব করেন নাই। একটা করছিল; আমরা বাধা দিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এটি বাতিল করার দাবি জানান মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। তিনি বলেন, ‘মুসলিম হিসেবে শরিয়া আইন মানার সুযোগ তৈরির বদলে শরিয়া আইনকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে দিতে পারি না। আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনুন। সমস্যা সমাধানের নামে কোনো অবস্থাতেই শরিয়া অমান্য করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে কোরআনে বর্ণিত ইসলামের অকাট্য একটি বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সরকার কখনো এমন কোনো আইন করতে পারে না, যা নাগরিকের ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে। বর্তমান সরকারও কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বারংবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই সরকার শরিয়াবিরোধী আইন পাশ করেছে।’

Manual5 Ad Code

সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি ইসলামি শরিয়ায় বিস্তারিত বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ উত্তরাধিকার আইনকে যত বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করেছেন, তা অন্য কোনো বিধানের ক্ষেত্রে করেননি। সম্ভাব্য সব প্রকার ও পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে পরিবারের প্রথম স্তর (সন্তান ও তৎসম্পর্কিত), দ্বিতীয় স্তর (বাবা-মা, ভাই-বোন ও তৎসম্পর্কিত), তৃতীয় স্তর (দাদা-চাচা ও তৎসম্পর্কিত)-সহ সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

Manual4 Ad Code

ফয়জুল করিম বলেন, ‘শরিয়াকে অমান্য করে হেবার বিধানে পরিবর্তন করা যাবে না। সেই অধিকার ইসলাম কাউকে দেয়নি। বরং সর্বত্র শরিয়া মান্য করার মানসিকতা রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বলছে, হেবা সংক্রান্ত আইন বহাল থাকবে। এ সংশোধনীর মাধ্যমে দান বা গিফটের আরেকটি পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে। এখানে দুটা বিষয়। একেকটি মুসলিম দেশে শত বছর ধরে প্রচলিত একটি শরিয়া সমর্থিত আইনকে বাইপাস করার সুযোগ রাষ্ট্র কেন তৈরি করবে? মুসলিম হিসেবে শরিয়া আইন মানার সুযোগ তৈরির বদলে শরিয়া আইনকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আমরা তৈরি করতে দিতে পারি না।’

Manual6 Ad Code