তারাপুরে থাকবে মেডিকেল কলেজ, থাকবেন না রাগীব আলী

প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৬

বিশেষ প্রতিনিধি ::::তারাপুরে মেডিকেল কলেজ থাকবে কিন্তু থাকবে না রাগীব আলীর নাম এমন একটি সিদ্ধান্তের দিকে এগুচ্ছে সরকার। নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এরকম একটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে বিষয়টির আইনি দিক বিবেচনা করা হচ্ছে। আইনি কোনো জটিলতা না থাকলে এ সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। সূত্রমতে, তারাপুরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিলো গত ১ আগস্ট থেকে। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তারাপুরে অবস্থিত দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রাগীব আলীর নিজ নামে একটি মেডিকেল কলেজ ছাড়াও সেখানে মদনমোহন কলেজের একটি ক্যাম্পাস রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় জেলা প্রশাসন সরাসরি অ্যাকশনে না গিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের উপর ছেড়ে দেন। ইস্যুটি নিয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েক দফা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। একাধিক এসব বৈঠকে রাগীব আলীকে ছাড় না দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা যায় কি-না এমন পর্যালোচনা হয়। এমন পর্যালোচনা থেকে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ থেকে রাগীব আলীকে সরিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত ওঠে আসে বলে জানিয়েছে ঐ সূত্র। এদিকে, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ সরানোর সময় চেয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে করা আবেদনের গতকাল শুনানি হয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, ঐ শুনানিতেও মেডিকেল কলেজটি রক্ষা করা যায় কি-না সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতি পর্যালোচনা চেয়েছেন। শুনানিতে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় তারাপুরে মেডিকেল কলেজটি রক্ষায় বেশ সময় ধরে আলোচনা হয়। শুনানিতে এক পর্যায়ে একজনের (রাগীব আলী) দোষে অনেকগুলো শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন হতে পারে না এমন বিষয় প্রধান বিচারপতির নজরে দিলে তিনিও বিষয়টিকে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তারাপুরে রাগীব আলীকে সরিয়ে সরকারি কিংবা চ্যারিটি ব্যবস্থাপনায় কলেজটি পরিচালিত হতে পারে কি-না এমন একটি পর্যালোচনাও আসে। তবে এ বিষয়ে আগামী সোমবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করা হয়েছে। ঐদিন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট সূত্র। প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ দায়িত্বে তারাপুরের সকল অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ ছিলো জেলা প্রশাসনের। গত ২০ জুলাই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করেন। নির্ধারিত সময়ে রাগীব আলী স্থাপনা না সরালে গত ২ আগস্ট ১১ দিনের সময় দিয়ে ফের আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন। আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে স্থাপনা না সরালে ১৪ আগস্ট তারাপুরে অবস্থিত সকল স্থাপনার গ্যাস-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানানো হয় ঐ বিজ্ঞপ্তিতে। গত ৩০ জুলাই নিজ দায়িত্বে স্থাপনা সরানোর মেয়াদ চলে যাওয়ার পর থেকে করণীয় নির্ধারণে দফায় দফায় বৈঠক করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। বিষয়টি সেনসেটিভ হিসাবে নিয়ে নেয়ার ফলে চূড়ান্ত নির্দেশের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শ চান সিলেট জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন। এর প্রেক্ষিতে সিলেটের প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মূলত এই বৈঠক থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচানোর পর্যালোচনা আসে। এদিকে, বিষয়টির কোনো চূড়ান্ত সুরাহা না হওয়ায় শঙ্কা দূর হচ্ছে না তারাপুরবাসীর। উচ্ছেদের নোটিশ আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিজ্ঞপ্তি ঘুম হারাম করে দিয়েছে তাদের। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর ভয়ে তারা এখন দিশেহারা। কী করবেন, কোথায় যাবেন আর কী করলে রক্ষা পাবে তাদের সম্পদ এমন চিন্তায় অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় এখন পুরো তারাপুরবাসী। প্রশাসনের দফায় দফায় প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে তারাও দফায় দফায় নানা কর্মসূচি পালন করছেন। সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদনের পর গতকালও স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। তারাপুর সংলগ্ন অসহায় মানুষের বাসা-বাড়ীতে বিদুৎ ও গ্যাস বিচ্ছিন্ন না করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারাপুরবাসী। গতকাল সোমবার বেলা ১২টায় তারাপুর থেকে একটি মিছিল বের হয়ে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে এসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলামের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তারাপুরবাসী স্মারকলিপি প্রদান করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ