• ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

sylhetsurma.com
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২২

Manual3 Ad Code

বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও রাজনীতি

: রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জয় :

Manual1 Ad Code

সামাজিক, রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক কারণে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষমতা অর্জন বা টিকিয়ে রাখতে ধর্মীয় আবেগ ও উগ্র চিন্তা ব্যবহার করছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলি। ধর্মের অন্ধ ব্যবহার জাতিকে মেধাশূন্য করে দিচ্ছে। বাংলাদেশে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বেড়েই চলছে। ধর্মের নাম ভোট-বাণিজ্য হয়। ধর্ম অবমাননার অযুহাতে মানুষকে হত্যা করা হয়। আমরা এক বর্বর ও অন্ধকার যুগে চলে যাচ্ছি। আমাদের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন। ধর্মীয় কুসংস্কার আমাদের মস্তিস্ককে অকেজো করে দিচ্ছে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সমাজে আলো ফুটাতে পারে, দিতে পারে আলোকিত সমাজ। বাংলাদেশে কবি, সুশীল, র্ধম নিরপেক্ষ মানুষেরা অনিরাপদ। বাংলাদেশে দাউদ হায়দারকে দেশ ছেড়ে পালতে হয়েছে কবিতা লেখার অপরাধে। এ কেমন বর্বরতা। লেখক জাফর ইকবালের উপর ধর্মান্ধদের হামলা। তাসলিমা নাসরিন দেশ ছেড়ে পালালো। ২০১৩ সাল থেকে হত্যা করা হচ্ছে ব্লগারদের। ধর্মের শত্রু বলেও মানুষ হত্যা করা হয়। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাই আমাদের ধর্মান্ধতা থেকে রক্ষা করতে পারে।
আমরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলাম। পাকিস্তানিরা আমাদের ধর্মের নামে শাসন করতো, অত্যাচার করতো। জামাতে ইসলাম ছিল পাকিস্তানের দালাল। জামাতে ইসলাম ১৯৭১ সালে আমাদের নারীদের অত্যাচার করেছে, ধর্ষণ করেছে। বাংলাদেশে তাদের নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। ওদের আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে নেজামে ইসলাম, জামাতে ইসলাম কিংবা ছাত্র শিবির, হেফাজতে ইসলাম ধর্মের নামে রাজনীতি করে। তরুণ সমাজের বুদ্ধভিত্তিকি চিন্তা ও মুক্তচিন্তাকে ধ্বংস করছে। তরুণ সমাজকে ধর্মান্ধতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
আমরা এমন একসময় চাই, যে সমাজ হবে জ্ঞানভিত্তিক, মুক্তচিন্তা ভিত্তিক। রাষ্ট্র ধর্মের নামে চলবেনা, রাষ্ট্র চলবে প্রচলিত আইনের অধীনে। নারীরা পাবে তাদের সমান অধিকার। নারীরা তাদের মতো করে বাঁচতে পারবে। ধর্ম কারো উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, সবাইকে র্ধমীয় স্বাধীনতা দিতে হবে। এটা হবে আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে গণত্রন্ত্র- খেলাফত না। যারা খেলাফতের স্বপ্ন দেখে তাদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশে ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধ জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা দিতে হবে। কারো উপর ধর্মীয় বিধিনিষিধ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। শিক্ষার পরিবেশ হবে উন্মুক্ত। ধর্মের নামে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর বিধি-নিষেধ প্রয়োগ করা যাবে না। বাংলাদেশ সব মানুষের। সকলের অধিকার সমান। আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছি নিজেদের স্বণির্ভর জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।
লেখক: রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী জয়। একজন মুক্তচিন্তার লেখক। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার কলিয়ারকাপন এলাকার মাতারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

Manual8 Ad Code