• ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুল নুর সানির পিতা বিচারবহির্ভূতভাবে আটক

sylhetsurma.com
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৫
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুল নুর সানির পিতা বিচারবহির্ভূতভাবে আটক

Manual7 Ad Code

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক আব্দুল নুর সানির পিতা মোঃ আছকর মিয়াকে গতকাল (১৫ আগস্ট) কোনো প্রকার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা এফআইআর ছাড়াই আটক করেছে মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশ। বিষয়টি স্থানীয় জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আব্দুল নুর সানি ও মৌলভীবাজার জেলার স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি আব্দুল কায়ূম রুমনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে রুমন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সানি ও তার বড় ভাই আব্দুল মুহিত রনির বিরুদ্ধে একটি ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আসামি হিসেবে নাম থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় সানি গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হলেও একই মামলায় বিগত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে আব্দুল নুর সানির বড় ভাই আব্দুল মুহিত রনিকে আটক করে বিমান বন্দর পুলিশ এবং পরে আব্দুল মুহিত রনি কে মৌলভীবাজার থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও তা বারবার বাতিল হয়। পরিবার অভিযোগ করে, মামলাটি তুলে নেওয়ার শর্তে রনির বাবা মোঃ আছকর মিয়ার কাছে নিয়মিত অর্থ দাবি করা হচ্ছিল।
স্থানীয়রা জানান, মামলার বাদী রুমন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সচিব আব্দুর রহিম রিপনের ভাই। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অপতৎপরতায় জড়াতে চাইলে সানি আইনি পথে বাধা দেন, এ থেকেই তাদের রাজনৈতিক বিরোধের শুরু।
আওয়ামী সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ থেকে রুমন একাধিকবার সানির বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে আটক হওয়া বড় ভাই আব্দুল মুহিত রনিকে আটক করা হলেও তার জামিন বারবার বাতিল হয় এবং প্রতিনিয়ত পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়। পরিবার অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলার পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মোঃ আছকর মিয়া অর্থ দিতে অস্বীকার করলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাকে ‘বিচারবহির্ভূতভাবে আটক করান বিএনপি নেতা আব্দুল কায়ূম রুমন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেপ্তারের দিন পুলিশ আছকর মিয়াকে বেধরক মারধর করে।
২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে মামলায় আটক হওয়া আব্দুল মুহিত রনি এখনও অবৈধভাবে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।
এদিকে, গতকাল (১৫ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় বাজার থেকে মোঃ আছকর মিয়াকে আটক করার পর বিকেলে জেলা বিএনপির সচিব আব্দুর রহিম রিপনের নেতৃত্বে দলীয় লোকজন ও ক্যাডাররা সানির বাড়িতে ব্যাপক
হামলা চালায়। তারা সানির মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং বাড়িটি দখল করে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সানির বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং জায়গাজমির দলিল নিয়ে বের হতে দেখা যায় আব্দুর রহিম রিপন ও তার লোকজনকে। এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে রুমন ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর চড়াও হয়ে কয়েকজনকে মারধর করে। হামলার পর প্রাণের ভয়ে সানির মা ও অন্যান্য সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন তবে তারা কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হলেও তাতে রাজি না হওয়ায় রুমন প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যেই হুমকি দেন যে মোঃ আছকর মিয়ার ছেলে আব্দুল নুর সানি কে যেখানেই পাবেন হত্যা করবেন। সেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই গত ১৫ আগস্ট আছকর মিয়াকে থানাহীন ওয়ারেন্ট ছাড়াই তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ এলাকাবসী আরও জানান, আটকের সময় এবং পরে থানায় আছকর মিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং মামলা প্রত্যাহারের শর্তে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এলাকাবাসী বলেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে নিহত সেবুল আহমদ হত্যাকান্ডে ও রুমন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সানিকে জড়ান এবং পরবর্তীতে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বানোয়াট মামলায় নতুন করে হয়রানি শুরু করেন। এসব ঘটনায় স্থানীয় আইনি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সচেতন নাগরিকরা।