ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার খুরমা গ্রামে ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টকে কেন্দ্র করে মোঃ শুয়েব আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলা নং-১৪০, তারিখ-২৯/০৭/২০২৬। ধারা- সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর ২২, ২৫, ২৬ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৯৫(ক), ২৯৮, ৫০০, ৫০৫(ক), ৫০৬ ধারা। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, মানহানিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন খুরমা মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান। বুধবার (২৯ জুলাই) আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে এফাইআর এর জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১০ জুলাই শুয়েব আহমেদ একটি ফেসবুক লাইভে যুক্ত হয়ে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও যৌন পরিচয় সম্পর্কে বক্তব্য দেন এবং তাঁর এক ট্রান্সজেন্ডার সঙ্গীর সঙ্গে ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানান। ওই লাইভ সম্প্রচারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে প্রতিবাদ জানান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান খুরমা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, শুয়েব আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম, মসজিদ, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ও আলেমদের নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও পোস্ট দিয়ে আসছেন। এসব বক্তব্যের কিছু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সামাজিকভাবে বিভেদ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শুয়েব আহমেদ বিশেষ করে বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছেন এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করেছেন।
মামলার আবেদনে বাদী দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।
মামলার আসামি মোঃ শুয়েব আহমেদ ছাতক উপজেলার খুরমা গ্রামের এস এম শরীয়ত উল্লাহ ও সুজিয়া বেগমের ছেলে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, “মোঃ শুয়েব আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ও পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”